পশ্চিমা সভ্যতা নিজেকে মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও নৈতিকতার একমাত্র অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরতে ভালোবাসে। তাদের আইন, সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে বিশ্বের জন্য আদর্শ বানানোর এক অদৃশ্য চাপও তারা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই তথাকথিত সভ্যতার আয়নায় তাকালে কি শুধু আলোই দেখা যায়, নাকি ভয়ংকর অন্ধকারও স্পষ্ট হয়?
যে সমাজ অন্যদের নৈতিকতা শেখায়, সেই সমাজেই শিশু নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঘটনা বারবার সামনে আসে। এসব অপরাধ কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বহু ক্ষেত্রে এগুলো একটি শক্তিশালী কাঠামোর ভেতরে চাপা পড়ে যায়। অর্থ, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব অপরাধীদের রক্ষা করে, আর ভুক্তভোগীরা হারিয়ে যায় নীরবতার অন্ধকারে।
অথচ এই একই শক্তি বিশ্বের অন্য প্রান্তে বসে বক্তৃতা দেয়—কীভাবে সমাজ চলবে, কোন বয়সে বিয়ে হবে, কোন সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য আর কোনটা নয়। যারা এই একচোখা নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে, তাদের গায়ে সহজেই “চরমপন্থী”, “সন্ত্রাসী” বা “পশ্চাৎপদ” তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়। সমালোচনা এখানে অপরাধ, প্রশ্ন তোলা এখানে অগ্রহণযোগ্য।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—এই দ্বিচারিতা আজ স্বাভাবিক হয়ে গেছে। মানবাধিকার এখানে নির্বাচনী; শক্তিশালীদের জন্য শিথিল, দুর্বলদের জন্য কঠোর। নৈতিকতা এখানে সুবিধাভিত্তিক; প্রয়োজন হলে উচ্চকণ্ঠ, অস্বস্তিকর হলে নিশ্চুপ।
একটি সভ্যতার মান শুধু তার আইন বা উন্নত প্রযুক্তিতে নয়, বরং সে তার শিশুদের কতটা নিরাপদ রাখতে পারে—সেটাতেই প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায়। যে সমাজ নিজের ভেতরের অপরাধ ঢেকে রেখে অন্যদের উপদেশ দেয়, সে সমাজ আসলে নৈতিক কর্তৃত্ব হারিয়েছে।
আজ প্রয়োজন পশ্চিমকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা নয়, বরং প্রশ্ন করা—এই মানবতার বুলি আসলে কাদের জন্য? ন্যায়বিচার যদি সত্যিই বৈশ্বিক হয়, তবে তা শক্তি, দেশ বা সংস্কৃতি দেখে বদলাতে পারে না। মানবতার মুখোশ খুলে সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহসই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
আবু সাঈদ

Comments
Post a Comment