আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্ব শাসন করবে উচ্চশিক্ষিত, নোবেল বিজয়ী ও মানবাধিকারকর্মীরা—যারা নিজেদেরকে বিশ্বের সামনে শান্তির রক্ষক বলে দাবি করবে। কিন্তু বাস্তবে বিশ্বের সকল যুদ্ধ ও বিগ্রহ তারাই শুরু করবে।
বিশ্বের প্রতিটি দেশ একে অপরের শত্রুতে পরিণত হবে। সাধারণ মানুষ মনে করবে তারা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করছে, অথচ বাস্তবে তারা লড়াই করবে এলিট শ্রেণির স্বার্থ রক্ষায়। গ্রাম থেকে শহর—সবকিছুই একসময় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে। চারদিকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে মানুষের অমূল্য জীবন হয়ে উঠবে খুবই তুচ্ছ। খাবারের জন্য মানুষ একে অপরের প্রাণ নিতেও প্রস্তুত থাকবে।
যুদ্ধের এক পর্যায়ে গিয়ে সব দেশের সাধারণ জনগণ শান্তি চাইবে। তখন এলিট শ্রেণি আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না। এরপর তারা শান্তির ফয়সালা হিসেবে বলবে— সব দেশের সীমান্ত তুলে দেওয়া হোক, কারণ রাজ্য বা রাষ্ট্র না থাকলে রাজত্ব নিয়ে আর যুদ্ধ হবে না। এরপর তারা বলবে—ধর্মচর্চা বন্ধ করে সবাই নাস্তিক হয়ে যাক, তাহলে আর কোনো ভেদাভেদ থাকবে না; সবাই এক হয়ে নিজেদের মতো বসবাস করতে পারবে। এই যুদ্ধে বিপুল সম্পদ ধ্বংস হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেবে। এরপর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অজুহাতে ডিজিটাল কারেন্সির বিনিময়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সমস্ত সম্পদ সংগ্রহ করে রিজার্ভে জমা করা হবে।
ফলে অর্থনীতি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। তারা নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী মানুষকে ব্যবহার করবে। মানুষ কী খাবে, কী পরবে—সবই তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
যে জাতি নিজের অর্থনীতি যত বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে জাতি তত উন্নত হয়। ২০২৬ সালের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এই কাল্পনিক ধারণা বাস্তবায়নের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
আবু সাঈদ

Comments
Post a Comment